রাজধানীর চানখাঁরপুল—এক সময়ের ব্যস্ততম চিকিৎসাকেন্দ্রঘেরা এলাকা, আজও যেখানে বাতাসে ভেসে বেড়ায় বিভীষিকার স্মৃতি। সেই ৫ আগস্টের রক্তাক্ত সকাল যেন ইতিহাসের পাতায় লেখা এক নির্মম ট্র্যাজেডি। আর এবার, সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক চমকপ্রদ মোড়—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিত দমন-পীড়নের অংশ হিসেবেই ঘটানো হয়েছিলো চানখাঁরপুল গণহত্যা। তরুণ শিক্ষার্থী আনাস, যিনি শুধু একটি ব্যানার হাতে প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছিলেন, তার দেহটি পরে পাওয়া গিয়েছিলো চেতনানাশক ইনজেকশনের চিহ্ন ও রাবার বুলেটের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায়।প্রতিবেদন বলছে, ‘নিচের নির্দেশে চলেছে উপরের বুলেট’। নিরাপত্তার নামে বর্বরতায় রূপ নেওয়া সেই অভিযানে হাবিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদ এবং তথাকথিত “শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা”র নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একের পর এক দলিল তুলে ধরেছে তদন্তকারী সংস্থা।এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরীহ নাগরিকদের ওপর বলপ্রয়োগ, এবং সেই সাথে ‘নিরাপত্তা’র নামে গুম-খুনের সংস্কৃতি উন্মোচনের ইতিহাস। যারা একসময় রাষ্ট্রের প্রতীক ছিলেন, আজ তারাই অভিযুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে গা শিউরে ওঠা এক মামলায়।বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবে এই প্রতিবেদন যেন এক নীরব চিৎকার—যেখানে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে আনাসের শেষ কথা, “আমি কি দেশের শত্রু?”এই দেশ আর কতজন আনাস হারাবে? বিচার কি একদিন সত্যি হবে?

