শিঙাড়া খেতে খেতে বন্ধুর সঙ্গে একটু হাসছিল ছেলেটা। হয়তো ক্লাসের ক্লান্তি কাটছিল, কিংবা জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো উদযাপন করছিল—যেমনটা একটা ২১ বছরের তরুণের করা উচিত। কিন্তু সেই হাসিই যেন হয়ে উঠল তার মৃত্যুর কারণ।প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ গতকাল (১৯ এপ্রিল) খুন হয়েছেন নিজ ক্যাম্পাসের সামনেই। একেবারে তুচ্ছ, ভিত্তিহীন এক সন্দেহ, কিছু ভুল বোঝাবুঝি আর অহংকারের বশে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড — যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।ঘটনার শুরু খুব সাধারণ — পারভেজ তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশেই ছিলেন দুই নারী শিক্ষার্থী, যারা মনে করেন ছেলেরা তাদের নিয়ে হাসছেন। এরপর তারা খবর দেন বাইরের তিন যুবককে, সম্ভবত তাদের “বয়ফ্রেন্ড”। তারা এসে জবাব চায়, ঘটে কথাকাটাকাটি।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখনই পরিস্থিতি শান্ত করেন। কিন্তু শান্তি ছিল ক্ষণিকের। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন যুবক নিয়ে এসে পারভেজকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হৃদয়ের ওপর সোজা এক আঘাতে শেষ হয়ে যায় প্রাণ। শেষ হয়ে যায় এক তরুণের হাসিমাখা ভবিষ্যৎ।পারভেজ ময়মনসিংহের রয়েল মিডিয়া কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। টাউন হলের পাশের এক মেসে থাকতেন। যারা তাকে চিনতেন, জানেন—ছেলেটা সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী, সালাম দিয়েই হেসে নুয়ে পড়ত। সেই হাসিই যেন আজ কাল হয়ে দাঁড়াল তার জীবনে।এই হত্যাকাণ্ড নিছক কোনো ব্যক্তিগত রাগ নয়, এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের এক জঘন্য রূপ।এটা সেই সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভুল বোঝাবুঝিকে রক্ত দিয়ে মেটানো হয়।প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছু ঘটে গেল—ভিডিও ফুটেজ আছে, প্রত্যক্ষদর্শী আছে, অথচ এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি কেন?পারভেজ হয়তো বড় কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। কিন্তু তার জীবন কি তাই বলে কম মূল্যবান?
এই নীরবতা ভাঙুন।
আওয়াজ তুলুন।
কারণ নীরব থাকলে,
একদিন সেই ছুরিটা আমাদের কারও গায়েও লাগতে পারে।

