১৪ জুন ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি—এই দুই পক্ষ এখন নির্বাচন ইস্যুতে আপসের পথে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকে আয়োজনের বিষয়ে সম্মতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে রমজান শুরুর আগে নির্বাচন আয়োজনের শর্তস্বরূপ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন অধ্যাপক ইউনূস—সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি।
এদিকে, এই সমঝোতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই দলগুলোর দাবি, এমন একতরফা আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন নির্ধারণের প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই চলমান বিভাজনের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার চাপের মুখে ছিল। এবার লন্ডনের বৈঠক সেই অস্থিরতায় কিছুটা স্থিতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির নেতৃবৃন্দও মনে করেন, এই বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হয়েছে।
বৈঠকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে একান্তে কথা বলেন তারেক রহমান ও অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিও দেওয়া হয়, যদিও এর নির্দিষ্ট আলোচ্যবিষয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা আরফিউল ইসলাম আদীব বলেন, শুধুমাত্র একটি দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হলে তা দেশের অন্যান্য দল ও জনগণের প্রতি অসম্মানজনক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন চায়। কারণ, সরকারে বড় রদবদল হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। তাই তারা চাপ প্রয়োগ করে হলেও একটি সময়ের মধ্যে নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
অবশ্য, সব দলের সম্মতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে রাজনৈতিক বিভাজন ও সন্দেহ থেকেই যাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
তবে সরকারের উপদেষ্টারা আশাবাদী যে, সব দলকে আলোচনার টেবিলে আনতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

